
অনেকেই মনে করেন, ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়ার সময় একবার পাসওয়ার্ড সেট করলেই ওয়াই-ফাই নিরাপদ হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, রাউটার সেটআপের পর অধিকাংশ ব্যবহারকারী আর সেটিংসে ঢোকেন না। এই অবহেলার সুযোগ নিয়েই আশপাশের কেউ বা প্রতিবেশী গোপনে আপনার ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে পারে।
এর ফলে ইন্টারনেটের গতি কমে যায়, ডেটা দ্রুত শেষ হয় এবং কখনো কখনো আইপি অ্যাড্রেসের অপব্যবহারও হতে পারে। তবে স্বস্তির খবর হলো—মাত্র কয়েক মিনিটেই আপনি জানতে পারবেন, আপনার ওয়াই-ফাই কেউ চুরি করছে কি না এবং চাইলে সেটি বন্ধও করতে পারবেন।
ওয়াই-ফাই চুরির অন্যতম প্রধান কারণ হলো রাউটারের ডিফল্ট সেটিংস অপরিবর্তিত রাখা। অধিকাংশ রাউটারেই অ্যাডমিন ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড হিসেবে ‘admin’ বা ‘password’ দেওয়া থাকে। অনেক ব্যবহারকারী এগুলো পরিবর্তন করেন না। ফলে যে কেউ রাউটারের মডেল নম্বর অনলাইনে সার্চ করেই এই তথ্য পেয়ে নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়তে পারে।
ওয়াই-ফাই ব্যবহারকারী শনাক্ত করতে প্রথমে মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার খুলে 192.168.1.1 অথবা 192.168.0.1 টাইপ করুন। এরপর রাউটারের অ্যাডমিন ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।
লগইনের পর Connected Devices, Device List বা Attached Devices অপশনে যান। সেখানে বর্তমানে সংযুক্ত সব ডিভাইসের নাম বা MAC Address দেখা যাবে। যদি এমন কোনো ডিভাইস দেখতে পান, যা আপনার পরিচিত নয়, তাহলে ধরে নিতে হবে—আপনার ওয়াই-ফাই অন্য কেউ ব্যবহার করছে।
অনেকে শুধু ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করেন, কিন্তু রাউটারের অ্যাডমিন পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করেন না। অথচ এই অ্যাডমিন পাসওয়ার্ড দিয়েই রাউটারের সব সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এটি ডিফল্ট বা দুর্বল থাকলে যে কেউ সহজেই নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তাই দ্রুত শক্তিশালী ও ইউনিক অ্যাডমিন পাসওয়ার্ড সেট করা জরুরি।
যদি আপনার রাউটারের সিকিউরিটি মোড এখনও WEP বা WPA থাকে, তাহলে সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই সিস্টেম কয়েক মিনিটেই হ্যাক করা সম্ভব। রাউটার সমর্থন করলে অবশ্যই WPA2-PSK (AES) অথবা সর্বোত্তমভাবে WPA3 ব্যবহার করা উচিত।
WPS (Wi-Fi Protected Setup) সংযোগ সহজ করলেও এটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। ফ্রি সফটওয়্যার ব্যবহার করে খুব অল্প সময়েই WPS PIN ভেঙে ফেলা যায়। তাই রাউটারের সেটিংসে গিয়ে WPS সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া নিরাপদ।
ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড অন্তত ১৬ অক্ষরের হওয়া উচিত। এতে বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করতে হবে। নিজের নাম, ফোন নম্বর বা সহজ শব্দ ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। চাইলে SSID ব্রডকাস্ট বন্ধ করে নেটওয়ার্কের নাম লুকিয়ে রাখতে পারেন, এতে অচেনা ব্যবহারকারীরা সহজে নেটওয়ার্ক খুঁজে পাবে না।
MAC Address Filtering চালু করলে শুধুমাত্র অনুমোদিত ডিভাইসই ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে পারবে। কেউ পাসওয়ার্ড জানলেও অনুমতি ছাড়া ঢুকতে পারবে না। পাশাপাশি নিয়মিত রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট রাখা জরুরি, কারণ পুরনো ফার্মওয়্যারে নিরাপত্তা ত্রুটি থেকে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সতর্কতা মানলে ব্যক্তিগত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক অনেক বেশি নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।