
ঢাকার ধামরাইয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী বড় ভাইয়ের জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাদের বোন মোছা. জাহেরা খাতুন (৪৮)।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগকারী জানান, গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কালামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তার ছোট ভাই হোসেন ভদ্র কথিত জাল দলিলের মাধ্যমে বড় ভাই হাসান ভদ্রের জমি লিখে নেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ওই দিনই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযুক্তরা হলেন—ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের ফরিঙ্গা গ্রামের মৃত আসাদ আলী ভদ্রের ছোট ছেলে হোসেন ভদ্র, আমির হোসেনের ছেলে মো. মনির হোসেন এবং একই ইউনিয়নের দুধিঘাটা গ্রামের জজু আলীর ছেলে আজর আলী। হোসেন ভদ্র ও আজর আলী সম্পর্কে বিয়াই এবং মনির হোসেন তাদের প্রতিবেশী।
লিখিত অভিযোগে জাহেরা খাতুন উল্লেখ করেন, তার বড় ভাই হাসান ভদ্র একজন প্রতিবন্ধী। গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে অভিযুক্তরা প্রতারণার মাধ্যমে তার বড় ভাইয়ের নামে থাকা প্রায় ৪৪শতাং জমি জাল দলিল করে লিখে নেন।
বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তার দুই বোন, মা ও অন্যান্য স্বজন সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করে ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নেন। পরে অভিযুক্ত ছোট ভাই হোসেন ভদ্রের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
জাহেরা খাতুন বলেন, “আমার ছোট ভাই হোসেন ভদ্র খুব খারাপ প্রকৃতির লোক। সে আমার বড় ভাইয়ের জমি তার বিয়াইকে ভাই সাজিয়ে জাল দলিল করে লিখে নিয়েছে। কিছুদিন আগেও আমার মায়ের জমি জাল দলিল করে লিখে নিয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে হোসেন ভদ্র জাল দলিলের মাধ্যমে জমি লিখে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমি ভুল করেছি। আমার মাথা ঠিক ছিল না। আমি জমি ফেরত দিয়ে দেব।” কার মাধ্যমে কথিত জাল দলিল করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি তাদের নাম জানি না। টাকার বিনিময়ে তারা করে দিয়েছে।”
দলিলের কথিত চিহ্নিত সাক্ষী মনির হোসেন বলেন,“আমি ওই দলিলের বিষয়ে এবং জমির ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে কিছুই জানি না। জমির দলিলে আমি কোন স্বাক্ষর বা অন্যান্য তথ্য সেগুলোর কোনো কিছুই আমি দিইনি। দলিলে থাকা এসব তথ্য সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন।”
অভিযুক্ত কথিত দলিলদাতা আজর আলী বলেন, “আমি জাল দলিলের বিষয়ে কিছু জানি না। আমি কালামপুর গিয়েছিলাম, তবে আমি সেখানে আমার ছবি বা কোনো স্বাক্ষর দিইনি।”
এ বিষয়ে ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সোহেল
রানা।
নির্বাহী সম্পাদক: ডাঃ ফজলুর রহমান
(সবুজ)