
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ‘ডিরেক্ট টু মোবাইল’ নামে একটি নতুন প্রযুক্তি চালু করেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই মোবাইল ফোনে ভিডিও, টিভি চ্যানেল, খেলাধুলা কিংবা সিনেমা দেখার সুযোগ মিলবে।
ইন্টারনেট বা ওয়াইফাই ব্যবহার না করেও ফোনে ভিডিও ও টিভি চ্যানেল দেখার সুবিধা—এ ধরনের প্রযুক্তি এতদিন মূলত পশ্চিমা দেশগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার ভারতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই পরিষেবা ব্যবহারের জন্য ব্যয়বহুল স্মার্টফোনের প্রয়োজন নেই। মাত্র দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার সাধারণ ডিভাইসেই ইন্টারনেটবিহীন ডিজিটাল পরিষেবা পাওয়া যাবে। প্রযুক্তির ইতিহাসে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি দিল্লি ও বেঙ্গালুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে এই ‘ডিরেক্ট টু মোবাইল’ প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। এতে কৃত্রিম উপগ্রহ ও ব্রডকাস্টিং টাওয়ারের মাধ্যমে সরাসরি মোবাইল ফোনে সিগন্যাল পাঠানো হয়। ফলে ইন্টারনেট ছাড়াই ব্যবহারকারীরা ভিডিও কনটেন্ট, টিভি চ্যানেল, সংবাদ, খেলা ও সিনেমা উপভোগ করতে পারবেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে দেশের আরও প্রায় ২০টি শহরে এই প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও সহজে ডিজিটাল পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থার বড় সুবিধা হলো, মোবাইল ব্যবহারকারীদের আর ইন্টারনেট রিচার্জের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে না। ফলে প্রযুক্তিটি সফল হলে জিও, এয়ারটেল কিংবা ভোডাফোনের মতো টেলিকম সংস্থাগুলোর ব্যবসায়িক কাঠামোতেও বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
‘ডিরেক্ট টু মোবাইল’ প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করতে সরকার একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মও চালু করেছে। এই পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় ফোন বর্তমানে তৈরি করছে লাভা ও এইচএমডি গ্লোবালের মতো সংস্থা। কম দামে এসব ডিভাইস বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সরকারের জন্য সহজ হবে।
লাভা ও এইচএমডি গ্লোবালের তৈরি ফোনগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসএল-৩০০০ চিপ। এই সেমিকন্ডাক্টর তৈরির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সংখ্যা ল্যাবস ও তেজস নেটওয়ার্ক, যা টাটা গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এই প্রথম ভারতের মাটিতে তৈরি কোনো মোবাইল ফোনে সম্পূর্ণ দেশীয় চিপ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বাস্তবে ‘ডিরেক্ট টু মোবাইল’ প্রযুক্তিটি কতটা সফলভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সোহেল
রানা।
নির্বাহী সম্পাদক: ডাঃ ফজলুর রহমান
(সবুজ)