সঙ্গে ভাইরাস ও জীবাণুর সক্রিয়তাও বেড়ে যায়, আর অনেকেই টের পান নাক ঝাড়া, হালকা ঠান্ডা কিংবা সবসময় অসুস্থ হয়ে পড়ার অনুভূতি। শীতে সুস্থ থাকতে হলে দরকার সঠিক খাবারের সঙ্গ। অক্সফোর্ড-প্রশিক্ষিত পুষ্টিবিশারদ ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞ সুমন আগরওয়াল সম্প্রতি একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে জানিয়েছেন কিছু খাবারের কথা, যা নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং শীতের সাধারণ সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে। তার ভাষায়, এসব খাবার প্রতিদিনের প্লেটে থাকলেই শীতের সংক্রমণ মোকাবিলা করা সহজ হয়।
শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যে পাঁচটি সুপারফুড খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, তা নিচে তুলে ধরা হলো।
প্রথমেই আছে সরিষা শাক। শীতের সবুজগুলোর মধ্যে সরিষা শাককে তিনি রেখেছেন তালিকার শীর্ষে। এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে ভিটামিন এ, সি ও কে। এটি ইমিউনিটি বাড়ায়, হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ব্রাসিকাসি পরিবারভুক্ত এই সবজিতে ব্রোকলি, কেল বা বাঁধাকপির মতোই রয়েছে গ্লুকোসিনোলেট, ক্যারোটিনয়েড, ফিনলিকসহ বহু উপকারী উপাদান, যা ক্যানসার, হৃদরোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অনেক জটিলতা প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। হর্টিকালচার রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
দ্বিতীয় সুপারফুড হলো গুঁদ বা ভোজ্য গাম। সুমন আগরওয়ালের ব্যক্তিগতভাবে প্রিয় শীতকালীন খাবারের একটি হলো গুঁদ লাড্ডু। আকেশিয়া গাছের রস থেকে তৈরি এই প্রাকৃতিক রেজিন শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং শক্তি জোগায়। এতে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্ক ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে, আর ক্যালসিয়াম হাড়কে মজবুত রাখে। পুষ্টিবিশারদের ব্যাখ্যায়, এটি একটি প্রাকৃতিক গ্যালাকটোগগ হিসেবেও কাজ করে, ফলে মায়েদের দুধ উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে।
তৃতীয় সুপারফুড হলো আমলকি বা ভারতীয় গুজবেরি। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ এই ফল রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও হার্ট-সুরক্ষা উপকারী গুণে ভরপুর। ২০১৫ সালে অক্সিডেটিভ মেডিসিন অ্যান্ড সেলুলার লংজেভিটি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমলকি ক্যানসার প্রতিরোধেও সম্ভাবনাময় ভূমিকা রাখতে পারে। আগরওয়ালের মতে, বেশিরভাগ ফল বা সবজিতে কাটা হলে ভিটামিন সি দ্রুত অক্সিডাইজ হয়ে যায়, কিন্তু আমলকির ক্ষেত্রে এই অক্সিডাইজেশনের হার অনেক ধীর। তাই শীতে আমলকি খেলে ইমিউনিটি বাড়ার পাশাপাশি চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটে।
চতুর্থ সুপারফুড হলো তিল। মিষ্টি থেকে ঝাল, নানা রান্নায় ব্যবহৃত হয় তিল, আর এটি সত্যিকারের এক সুপারফুড। তিল শরীরে প্রাকৃতিকভাবে তাপ উৎপন্ন করে, ফলে শীতে শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। ১০০ গ্রাম তিলে থাকে প্রায় ৯৭৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, যা অন্যান্য সব বীজের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। ২০১২ সালে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তিলের তেল রক্তচাপ কমাতে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
শেষ সুপারফুড হলো কাঁচা হলুদ। এশিয়ান খাবারে বহুল ব্যবহৃত এই মশলাটি শীতের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহনাশক গুণ, যা ইমিউনিটি বাড়ায়। ২০২৩ সালের একটি রিভিউ গবেষণায় দেখা গেছে, হলুদে থাকা সক্রিয় বায়োঅ্যাকটিভ যৌগগুলো হজমতন্ত্রের উন্নতি এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। আগরওয়াল জানান, তিনি নিজের শীতকালীন চায়ে আদা ও কাঁচা হলুদ কুচি করে যোগ করেন, সঙ্গে সামান্য মধু ও লেবু। এই চা গ্যাস এবং পেট ফাঁপা কমায়, আর শীতের অন্যতম সেরা প্রদাহনাশক পানীয় হিসেবে কাজ করে।
শীতের এই সময়টিতে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে খাদ্যাভ্যাসে সঠিক খাবার যুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এসব সুপারফুড রাখতে পারলে ইমিউনিটি বাড়ার পাশাপাশি সার্বিক সুস্থতাও নিশ্চিত হয়। তাই শীতের আমেজ উপভোগের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধের শক্তিও যেন থাকে আপনার হাতে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সোহেল
রানা।
নির্বাহী সম্পাদক: ডাঃ ফজলুর রহমান
(সবুজ)